ব্রাজিলের এ কোম্পানি সম্প্রতি তাদের এক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মূলত বাজারে আকরিক লোহার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ নতুন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গিনিতে সিমান্দু নামের বিশাল এক আকরিক লোহার খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় বড় খনি কোম্পানির সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টার ফলে বাজারে প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীনে আকরিক লোহার চাহিদা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এ দুইয়ের প্রভাবে আগামী কয়েক বছর আকরিক লোহার দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গুস্তাভো পিমেন্টা জানিয়েছেন, খনি শিল্প এখন এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক পুরনো খনি থেকে আকরিক লোহা উত্তোলন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খনির মজুদ ফুরিয়ে আসছে, ফলে কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এসব কারণে উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখেই কোম্পানিটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যের পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলার করেছে।
কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ও উন্নয়নবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা জানান, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলোর প্রাকৃতিক ক্ষয় বা মজুদ কমে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ-ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহের যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, তাতে ১০০ ডলারের নিচে আকরিক লোহা বিক্রি করা এখন উৎপাদকদের জন্য লাভজনক নয়। এটিই এখন এ শিল্পের নতুন ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ বা লাভ-ক্ষতিহীন বিন্দু হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বাজারের এ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের পণ্যের ধরনেও পরিবর্তন আনছে কোম্পানিটি। এখন সাধারণ মানের আকরিকের চেয়ে প্রিমিয়াম বা উন্নত মানের আকরিক উৎপাদনের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে তারা। ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের মোট উৎপাদনের একটি বড় অংশ ছিল উচ্চমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক লোহা। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন স্টিল’ তৈরির জন্য এ ধরনের উন্নত মানের আকরিকের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে।
যদিও চীনে চাহিদা কিছুটা কমছে, তবে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ইস্পাত শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। ভেল আশা করছে, এসব অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চাহিদা আগামী চার বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া ২০৩০ সাল নাগাদ নিজেদের উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কোম্পানিটি।